পরীক্ষামূলক সংস্করণ শনিবার থেকে ২০ শতাংশ বাড়ছে বেকারি পণ্যের দাম - khojnews
আজ বুধবার || ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ || ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শনিবার থেকে ২০ শতাংশ বাড়ছে বেকারি পণ্যের দাম

কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি ও বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের কারণে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর (শনিবার) থেকে সব ধরনের বেকারি পণ্যের দাম ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি। সংগঠনটি বলছে, কাঁচামালের লাগামহীন দাম বৃদ্ধি ও বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের কারণে চরম ক্ষতির মুখে এই খাতের উদ্যোক্তারা। তাই ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন তারা। বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, “কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কারণে বেকারি পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। ফলে আগের দামে পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে বাড়তি দামে মাল দেব। সরকার যদি আমাদের সহযোগিতা না করে তাহলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পথে বসে যাবে।” বেকারি ব্যবসায়ীরা জানান, ভোজ্যতেল, আটা, ময়দা ও চিনির মতো প্রধান চারটি কাঁচামালের দর বৃদ্ধির পাশাপাশি যোগ হয়েছে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট। ফলে কারখানা চালু রাখা, কর্মীদের বেতন-ভাতা দেয়া এবং লোকসান সামলে টিকে থাকাটাই এখন এ খাতের উদ্যোক্তাদের, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কয়েক মাস ধরে চিনিগুঁড়া ও অন্যান্য সুগন্ধি চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী। একই সময়ে বেড়েছে ডিম, ব্রয়লার মুরগি, চা পাতা, চিনি, গুঁড়া ও পাস্তুরিত তরল দুধ এবং পাঙাশ, তেলাপিয়া ও রুইসহ বিভিন্ন মাছের দাম। গ্রীষ্মকালীন সবজির দামও চড়া। এর সঙ্গে সম্প্রতি সয়াবিন ও পাম অয়েল, মসুর ডাল, ছোলা, আটা ও ময়দার দাম বাড়ায় প্রস্তুত খাদ্যের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, ৮ আগস্টের তুলনায় মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) কয়েকটি নিত্য ভোগ্যপণ্যের দাম ২ থেকে প্রায় ১১ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এক মাসে খোলা ময়দার দাম ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি কেজি ৬৫-৭০ টাকায় এবং প্যাকেট ময়দা ১০ দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়ে ৭০-৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাদা আটার দাম ৩ দশমিক ১৬ শতাংশ বেড়ে ৪৮-৫০ টাকা, খোলা সয়াবিন তেলের দাম ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১৯০-২০০, খোলা পাম অয়েলের দাম ২ শতাংশ বেড়ে ১৬৫-১৭২, চিনির দাম ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়ে ১১০-১১৫, ছোলার দাম ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেড়ে ১০০-১১০ এবং মসুর ডালের দাম ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৯৫-১০৫ টাকায় উঠেছে। একই সময়ে লেয়ার মুরগির ডিমের দাম হালিতে ৩-৬ টাকা বেড়ে ৫০-৫২ টাকা হয়েছে। প্রতি কেজি চায়ের দাম ২০ টাকা বেড়ে মানভেদে ৩৫০-৫০০ টাকা এবং গুঁড়া দুধের দাম ২০-৩০ টাকা বেড়ে ৭০০-৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয়

সৌদির বিরুদ্ধে ইরান যুদ্ধ করছে না: পেজেশকিয়ান

শনিবার থেকে ২০ শতাংশ বাড়ছে বেকারি পণ্যের দাম

আপডেট টাইম : ১১:৪৯:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি ও বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের কারণে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর (শনিবার) থেকে সব ধরনের বেকারি পণ্যের দাম ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি। সংগঠনটি বলছে, কাঁচামালের লাগামহীন দাম বৃদ্ধি ও বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের কারণে চরম ক্ষতির মুখে এই খাতের উদ্যোক্তারা। তাই ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন তারা। বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, “কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কারণে বেকারি পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। ফলে আগের দামে পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে বাড়তি দামে মাল দেব। সরকার যদি আমাদের সহযোগিতা না করে তাহলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পথে বসে যাবে।” বেকারি ব্যবসায়ীরা জানান, ভোজ্যতেল, আটা, ময়দা ও চিনির মতো প্রধান চারটি কাঁচামালের দর বৃদ্ধির পাশাপাশি যোগ হয়েছে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট। ফলে কারখানা চালু রাখা, কর্মীদের বেতন-ভাতা দেয়া এবং লোকসান সামলে টিকে থাকাটাই এখন এ খাতের উদ্যোক্তাদের, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কয়েক মাস ধরে চিনিগুঁড়া ও অন্যান্য সুগন্ধি চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী। একই সময়ে বেড়েছে ডিম, ব্রয়লার মুরগি, চা পাতা, চিনি, গুঁড়া ও পাস্তুরিত তরল দুধ এবং পাঙাশ, তেলাপিয়া ও রুইসহ বিভিন্ন মাছের দাম। গ্রীষ্মকালীন সবজির দামও চড়া। এর সঙ্গে সম্প্রতি সয়াবিন ও পাম অয়েল, মসুর ডাল, ছোলা, আটা ও ময়দার দাম বাড়ায় প্রস্তুত খাদ্যের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, ৮ আগস্টের তুলনায় মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) কয়েকটি নিত্য ভোগ্যপণ্যের দাম ২ থেকে প্রায় ১১ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এক মাসে খোলা ময়দার দাম ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি কেজি ৬৫-৭০ টাকায় এবং প্যাকেট ময়দা ১০ দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়ে ৭০-৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাদা আটার দাম ৩ দশমিক ১৬ শতাংশ বেড়ে ৪৮-৫০ টাকা, খোলা সয়াবিন তেলের দাম ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১৯০-২০০, খোলা পাম অয়েলের দাম ২ শতাংশ বেড়ে ১৬৫-১৭২, চিনির দাম ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়ে ১১০-১১৫, ছোলার দাম ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেড়ে ১০০-১১০ এবং মসুর ডালের দাম ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৯৫-১০৫ টাকায় উঠেছে। একই সময়ে লেয়ার মুরগির ডিমের দাম হালিতে ৩-৬ টাকা বেড়ে ৫০-৫২ টাকা হয়েছে। প্রতি কেজি চায়ের দাম ২০ টাকা বেড়ে মানভেদে ৩৫০-৫০০ টাকা এবং গুঁড়া দুধের দাম ২০-৩০ টাকা বেড়ে ৭০০-৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।